চর্যাপদের কবিতা (পঞ্চম কিস্তি)

0

চারবাকের ধারাবাহিক আয়োজন চর্যাপদের পাঁচটি কবিতা । আজ প্রকাশিত হলো পঞ্চম কিস্তি (২১, ২২, ২৩, ২৬ ও ২৭)।
-সম্পাদক, চারবাক

পাঠোদ্ধারঃ মজিব মহমমদ

অমৃতখোর ইঁদুরের সে-কি উল্লাস
সাঙ্গপাঙ্গ সংগে নিয়ে করছে সর্বনাশ

ঘুটঘুটে রাত্রে বাড়ে আনাগোনা
যোগীবর, জাগো-
ব্যাটাকে আর থামানো যাচ্ছে না ।

গর্তে গর্তে ঝাঁঝরা হল ঘর ও দোর
স্থিরসত্তার রশিতে বেঁধে রাখ চোর

পূতির মত চোখ, কটকটা গা
ক্ষেত থেকে ক্ষেতে ছোটাছুটি
জীবনটাই বুঝি ভোগের জায়গা!

মনে অগণন ঢেউ উদভ্রান্ত ইঁদুরের
গুরুই গতি প্রকৃতি পাল্টাতে পারে
তার এমন স্বভাবের

ইঁদুরের থামবে যখন এ অদম্য দৌড়
তখনই কেটে যাবে সম্পর্কের ঘোর

২২.
নিজের মূর্তিখানা নিজেই গড়ি
মিথ্যার শিকলে আটকে মরি

কীভাবে জন্ম আমার কীভাবে মরণ
অচেনাই থেকে যায় নিজের জীবন

একপাশে জন্ম, মৃত্যু অন্যপাশে
যে লোক শোকার্ত- সেই দেখি হাসে

জন্ম-মৃত্যুর ভয়ে কাঁপছে যারা
রস-রসায়নে মজুক তারা
যে যোগী দেবালোকে ঘুরে বেড়ায়
দু’কূল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়
কর্মের ভেতর জন্ম, না-কি জন্মে কর্ম
সরহ বলেন, বড়ই প্যাঁচানো এ ধর্ম

২৩.
একাগ্রতা নিয়ে
ঢুকে পড়ো পদ্মবন
আগে ভাগে
খতম করো পাঁচজন
সকালে যার জন্ম হল
রাতেই সে মরে
শিকারবিহীন কীভাবে
ঘরে ফেরে!
মায়া ও জালে
হরিণীটি কুপোকাত
গুরুই শুধু জানে
কাহিনির জাত-পাত

২৬.
তুলো ধুনে কী পাওয়া যায়? -আঁশ
আঁশ ধুনে? -তুলোর সর্বনাশ
কী এর হেতু, কীভাবেই-বা ঘটে
ব্যাপারটা কেমন ভূতুড়ে
তুলো ধুনে ধুনে শূন্যটা খাই
শূন্যের সংগে নিজেই মিশে যাই
কর্দমাক্ত পথ, দিগন্ত দেখা যায় না
শান্তি বলে, চুলের ডগাও ঢোকে না
কার্য নেই, কারণও নেই, এ কেমন যুক্তি
আত্ম সংবেদন- শান্তির উক্তি

২৭.
মাঝ রাতে পদ্ম ফুটেছে ওই
বত্রিশ যোগিনী নাচে ধেই ধেই

অবধূতির সাঁকো বেয়ে চলেছে চাঁদ
গুরুর কথাই অমৃতবচন ও নিখাদ

চলতে চলতে চাঁদের মুক্তি আসে
বিকশিত পদ্মখানি মৃণালে হাসে

মহাবোদ্ধা সেই, সেই পরম বুদ্ধ
যে বোঝে বিরামানন্দ বিলক্ষণ শুদ্ধ

মিলন, মহামিলন সবটা বুঝেছি
সহজানন্দে সুখস্পর্শ টের পেয়েছি

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর