জিললুর রহমানের সাক্ষাতকার

1

কবি প্রাবন্ধিক অনুবাদক জিললুর রহমানের জন্ম ১৬ নভেম্বর ১৯৬৬ । তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলঃ অন্য মন্ত্র (কবিতা), শাদা  অন্ধকার (কবিতা), উত্তর আধুনিকতাঃ এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়, অমৃত কথা (প্রবন্ধ), আধুনিকত্তোরবাদের নন্দনতত্ত্ব (অনুবাদ) । তিনি ‘লিরিক’ ছোটকাগজের সাথে জড়িত । পেশায় চিকিৎসক । চারবাকের পক্ষ থেকে এই লিখিত সাক্ষাতকারটি নিয়েছেনঃ কবি উপল বড়ুয়া ।
– সম্পাদক, চারবাক

উপল: আপনার অধিকাংশ কবিতায় মেসেজ থ্রু করার একটা প্রবণতা আছে । এই যে মেসেজ থ্রু করা- এটা কি আপনার অবেচতন মনে নাকি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে?

জিললুর রহমান: আমার কাছে এই প্রশ্নটা ঠিক বোধগম্য নয়। মেসেজ থ্রু করা বিষয়টা কীরকম? কবি কবিতা লিখে কেনো? নিশ্চয়ই সে কিছু বলতে চায় । পাঠকের সাথে তার চিন্তা ভাবনার কী অনুভুতির জগতের একটা সংযোগ ঘটাতে চায় । আর আমি কি তার কোনো ব্যত্যয় ঘটিয়েছি? আমিও আমার মনের বেদনা, দ্রোহ, চিন্তা, এসবকে প্রকাশ করেছি কবিতায়, যাতে করে পাঠক আমাকে আর আমার মনোজগৎকে বুঝতে পারেন, অনুভব বা অনুধাবন করতে পারেন । আমার চিন্তা-চেতনা তো আমার পরিপার্শ্ব, আমার গড়ে ওঠা, বেড়ে ওঠার সাথে সম্পৃক্ত । অবচেতনে বা স্বতঃস্ফূর্ততায় ভেসে আসেনি বলেই আমার বিশ্বাস । আমি যা বলতে চেয়েছি, তা নিজের মধ্যে ধারণ করেই বলেছি ।

উপল: আপনার কবিতায় মিথের ব্যবহার প্রচণ্ডভাবে লক্ষ্যণীয় । একাধারে আপনি উত্তর আধুনিক তত্ত্বের একজন অন্যতম প্রবক্তাও । এই তত্ত্বের কারণেই কি আপনার কবিতায় মিথের ব্যবহার?

জিললুর রহমান: এ প্রশ্ন তোমার মাথা থেকে গেলোই না । মিথ কী? অভিধান বলছে, a traditional story, especially one concerning the early history of a people or explaining a natural or social phenomenon, and typically involving supernatural beings or events; কেনই বা মিথ? কারণ মানুষ তার দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় যে ধারণা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তাতে হয়তো কিছু রঙও মিশেছে, কিন্তু অনেকের অবচেতনে বা বিশ্বাসে তার একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে ।  তাই কোনো কিছু বুঝাতে গেলে মানুষ পরিচিত কিছুর অবলম্বন গ্রহণ করে থাকে । কবিতায় মিথের ব্যবহার নতুন কিছু তো নয় । তবে আমাদের উত্তর আধুনিকতা নিয়ে কাজ করার প্রেক্ষিতে আমরা মিথকে ভিন্নভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করেছি । উত্তর আধুনিকতার সাথে ভূমিসংলগ্নতার, লোকাচারের, লোককথা এমনকি মিথের সংশ্লষ্টতা রয়েছে । তাই এসবের উপস্থিতি আমার কবিতায় পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । সে তোমরা আমার ‘জলপতন’, ‘আব্রু’, কী ‘ঝিনুক সইতে পারে’ , ‘ভাসান’ এরকম বেশ কিছু কবিতায় পাবে ।

উপল: “আমার বাবার নামও জিললুর রহমান (প্রতিকুল পরিচয়)” -এই যে অজস্র জিললুর রহমান থেকে কবি জিললুর রহমান হয়ে উঠা, স্বতন্ত্র হয়ে উঠা- এটা কি পরবর্তী ইতিহাসকে জানানো যে, হাজার জিললুর রহমান আছে কিন্তু কবি জিললুর রহমান এক ও অনবদ্য । যাঁর নিজস্ব একটা কথার স্বর আছে, বক্তব্য আছে?

জিললুর রহমান: এই কবিতা নিয়ে অনেকেই আড়ালে নানা রকম প্রশ্ন করে থাকে । তবে এভাবে কেউ দেখেছে কি? তবে কবিতার বহুমাত্রিকতা থাকতেই পারে, তুমি হয়তো এরকম একটা আভাস পাচ্ছো এখানে । তবে, এ নিছক একটা প্রেমের কবিতা । বলতে পারো, একটা ব্যর্থ প্রেমের কবিতা । এই কবিতার নায়িকার বাবার নামও জিললুর রহমান । আর নিজস্ব কথার স্বরভঙ্গি বা বক্তব্যের ধরন সব কবিই অর্জনের চেষ্টা করে থাকে । আমিও করেছি । তুমিই ভালো বলতে পারবে, আমার নিজস্ব কোনো স্বরভঙ্গি রয়েছে কি না !

উপল: সম্প্রতি অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও তাঁর গানের মাহাত্ম্য নিয়ে ‘জাতিস্মর’ নামে একটা ফিল্ম হলো । আপনি ‘উত্তর আধুনিকতাঃ এ সবুজ করুণ ডাঙায়’ বলতেছেন- “অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’র মতোন কবিওয়ালার খপ্পরে পড়ে কবিতার শ্লীলতা নষ্ট হতে থাকে” -কারনটা একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

জিললুর রহমান: দেখো, কবিতার ফেরি করে বেড়াতো বলেই তারা কবিওয়ালা বা কবিয়াল । অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ব্যক্তিগতভাবে আমার বক্তব্যের টার্গেট নন । তাঁর ডেডিকেশন আমারও জানা আছে । আমি কবিয়ালদের কবিতা ও প্রকৃত কবিতার বিভেদ বুঝাতে গিয়ে এই প্রসঙ্গ টেনেছিলাম । কবিয়ালগণ যে আসর বসিয়ে রাত্রি জেগে কথার পিঠে কথা সাজিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করেছেন, তা যেমন সত্য, তেমনি কবিতার বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের যে স্থুলতা – সেসব কথায় থাকতো তা অনেক ক্ষেত্রেই কবিতা পদবাচ্য নয় । চিরায়ত কবিতা মনের গহীন থেকে নিভৃতে উৎসারিত হয় । কারও সাথে তর্কে যেতার জন্য উচ্চকিত হয় না ।

উপল: “আধুনিকতা কি ইউরোকেন্দ্রিক সংস্কৃতির বঙ্গীয় উপনিবেশ নয়? এই-ই তো অবক্ষয়! (উত্তর আধুনিকতাঃ এ সবুজ করুণ ডাঙায়)” -এই উত্তর আধুনিকতা বা উত্তর উপনিবেশ চেতনা তাও তো ইউরোবাহিত । বা ত্রিশের যে আধুনিকতা সেটা কি কেবল অবক্ষয়ের দশক?

জিললুর রহমান: এখানে সব তো গুলিয়ে দিলে হে । আমি আমার প্রবন্ধে দেখিয়েছিলাম, তথাকথিত বঙ্গীয় রেনেসাঁস এবং তৎপরবর্তী বাংলা কবিতার মডার্নিটি ইউরোকেন্দ্রিক চেতনার বিকাশ । সেসব আমার মন গড়া কোনো কথা নয়, সব রেফারেন্স টেনে বিশ্লেষণ করেছিলাম । আর তুমি যে ফুকো-দেরিদা-র পোস্ট-মডার্নিজম বা এডওয়ার্ড সাঈদ এর পোস্ট-কলোনিয়ালিজম এর সাথে আমাদের উত্তর আধুনিকতা এক কাতারে বসিয়ে দিয়েছো । হ্যাঁ, আধুনিকতাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এঁদের বিশ্লেষণ আমাদের কাজে লাগে; প্রয়োজন হয় । কিন্তু তার পরের বিকাশমানতার জায়গাটি ভিন্ন । পোস্টমডার্নিজমকে আমরা অনুবাদ এর ক্ষেত্রে ‘আধুনিকোত্তরবাদ’ বলে থাকি । আর উত্তর আধুনিকতা বলতে আমরা আরও বিস্তৃত পটভূমিকে ধারণ করেছি । উত্তর এর অর্থ ‘উঁচু’, ‘উত্তরণ’ ইত্যাদিও হয় । উত্তর মানে কেবলই ‘পরবর্তী’ নয় । আমরা ‘উত্তর আধুনিকতা’ এই অভিধাটি ব্যবহারের সময় আধুনিকতা থেকে উত্তরণের একটা চেষ্টা, একটা উন্নততর অবস্থানে পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি । ত্রিশের কবিদের অনেক চমৎকার কবিতা রয়েছে । কিন্তু ইউরোকেন্দ্রিক চেতনার কথা অস্বীকার করি কীভাবে?

উপল: আপনি আশির দশকের কাব্য প্রতিনিধি । আশির দশকতো একটা কাব্য আন্দোলনও । অগ্রজ কবিদের ন্যারেটিভ ফর্ম ও একরৈখিক বিষয়কে পাশ কাটিয়ে কবিতায় বহুরৈখিক স্বর বিন্যাসের আয়োজন করেছেন। তো আশি পূর্ব, আশি এবঙ আশি পরের যে কাব্যনির্মাণ বা প্রবণতা সেটাকে কীভাবে দেখেন?

জিললুর রহমান: আমি এক কথায় দশকবাদী কাব্য বিশ্লেষণ পছন্দ করি না । তবে বাংলা কবিতায় ত্রিশের দশক একটা বিশেষ পর্ব বৈকি! এই সময়ের যারা কবি, তাঁরা সকলেই পণ্ডিত এবং প্রধানতঃ ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র । যে কোনো কবি মাত্রেই চাইবে, সে পূর্বজ কবিদের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু সৃষ্টি করবে । ত্রিশ দশকের কবিদের ভেতরেও জন্ম নিয়েছিলো সূর্যের মতো গনগনে রবীন্দ্র বলয়ের প্রভাবের বাইরে এসে নিজের কবিতাকে দাঁড় করাতে । এতে দোষের কিছু হয়তো নেই । কিন্তু তাঁদের অধীত জ্ঞান থেকে তাঁরা ইউরোপীয় আবহের কবিতাকে টেনে আনতে চেষ্টা করেছেন । আবহের সাথে চেতনাও এসেছে । বিবমিষা, ক্লেদজ কুসুমে আমাদের কবিতা নতুন রূপ পেয়েছে বৈকি! স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন বা তার পরবর্তী কিছু কবিতা বাদ দিলে স্বাধীনতা উত্তর প্রায় সব কবিতার মধ্যে এই ত্রিশ দশকের কবিদের অনুরণন পাই । কেউ কেউ আরও এগিয়ে গিয়ে সমকালীন ইউরোপীয় কবিতার কাছে ধর্ণা দিয়েছেন । এই ভাবে কবিতায় যুক্ত হয়েছে অবক্ষয়ী আধুনিকতার নানান উপসর্গ । আমাদের সময়ে তরুণেরা এই ক্রমঃ ক্ষয়িষ্ণু ধারা থেকে বেরিয়ে এসে কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে নতুন বর্ণচ্ছটায় উদ্ভাসিত করতে চেয়েছে । বহুবর্ণিল, বহু ভাষাভঙ্গি, বহু স্বরন্যাসের কবিতা আমরা এই সময়ে পেয়েছি । পরবর্তী সময়ের কবিতা এই বৈচিত্রের ধারাবাহিকতায় বিকশিত হয়েছে এবং ক্রম বিকশিত হচ্ছে বলেই আমার পর্যবেক্ষণ ।

উপল: আপনার কবিতায় আরেকটা বিষয় চোখে পড়ার মতোন । অব্যয়ের ব্যবহার নেই বললেই চলে । বাক্যের সাথে বাক্যের লিংকিংটা করছেন হাইফেন টেনে । এটা কি সচেতনভাবে এড়িয়ে নিজের স্টাইল তৈরীর চেষ্টা? কবিতায় অব্যয়ের ব্যবহার নিয়ে কিছু বলুন ।

জিললুর রহমান: কবিতায় হাইফেন ব্যবহার অনেকেই করেছেন । জীবনানন্দের অনেক কবিতায়ই হাইফেন এর ছড়াছড়ি । অব্যয় ব্যবহার কিংবা ক্রিয়াপদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কবিকে কিছুটা সচেতন তো হতেই হবে । শব্দের প্রকৃষ্টতম বিন্যাসকে যদি কবিতা হিসেবে ধরতে হয়, তো সচেতন থাকতে হবেই । অযথা ক্রিয়াপদের বা অব্যয়ের ব্যবহার কবিতার চরণকে বেশি এলিয়ে দেয়, ঝুলিয়ে দেয় । অব্যয় বা ক্রিয়াপদের ব্যবহার যদি করতেই হয়, তবে যেন তা অবশ্যম্ভাবী হয়, যেন এর উৎপাটন মাত্রেই কবিতার ব্যঞ্জণায় বিঘ্ন ঘটে । আমি কিন্তু প্রয়োজনে অব্যয়ের ব্যবহারও করেছি । আমার নিজ স্বরভঙ্গিতে শব্দগুলো যেভাবে বিকশিত হয়েছে, আমি তাই লিখেছি; এতে নিজস্ব কোনো স্টাইল বা প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে কিনা সে তোমরা ভেবে দেখবে । পাঠকই চূড়ান্ত বিবেচনা বৈকি!

উপল: আপনার কবিতায় সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হয় আর্ন্তবয়ান, বাঙালি মিথ, প্রেম, স্মৃতিকাতরতা । যদিও পাঠকই একমাত্র কবি ও কবিতার মূল্যায়ণকর্তা । তবু বলি- কবি হিশেবে আপনি আপনার কবিতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? সাথে পরবর্তী জেনারেশনের কবিদের?

জিললুর রহমান: আমার কবিতায় স্মৃতিকাতরতা আছে সত্য । কবিতার প্রকরণে এই ভূমি-সঞ্জাত মিথ এসেছে। প্রেম – হ্যাঁ, প্রেম তো কবিতার অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ । তবে কি জানো? এই সব কিছুই এই জাতির শ্বাশ্বত চরিত্রের অংশ মাত্র । আমার কবিতা নিয়ে আমি বেশ কিছু প্রবন্ধ এর মধ্যে লিখেছি । কবিতা লিখতে গিয়ে আমি কোন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গিয়েছি, কোন চিন্তা বা কোন ধারণা থেকে কিভাবে অন্তর্বয়ন করেছি, কোন মিথকে কেন কি বুঝাতে গিয়ে কবিতায় ব্যবহার করেছি ইত্যাদি ইত্যাদি । আমার প্রবন্ধের বই ‘অমৃত কথা’ তে তুমি এরকম বেশ কিছু প্রবন্ধ পাবে । এছাড়া, নিসর্গ, একবিংশ, সুরমস সহ বেশ কিছু লিটল ম্যাগাজিনে এসব প্রকাশিত হয়েছে । এক কথায় বলতে গেলে, হ্যাঁ, আমরা যে সময়ে কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম, সে সময়ের কবিতার বহু ব্যবহৃত ফর্ম ও ধারা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটা চেষ্টা আমার ছিলো । আর বিষয়ের দিক থেকে যদি বলো, স্লোগান মুখর কিংবা আমি তুমি মার্কা প্রেমের কবিতার যে যুগ ছিলো এক সময়, তা আমরা পার হয়ে এসেছি বলেই আমার বিশ্বাস । এখন কবিতা আরও গভীর কিছু ব্যক্ত করে থাকে । এখন কবিতা কেবলই উপমা নয়, কবিতা কেবলই শব্দের প্রকৃষ্টতম বিন্যাস নয় । কবিতা এখন টোটাল পোয়েট্রির আদল পেয়েছে । এখানে মিথের ব্যবহার বলো, অন্তর্বয়ন বলো, উপমা, উদাহরণ বলো, সব কবিতার শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে, এগুলোকে বাদ দিলে বা উৎপাটন করলে দেখবে কবিতাই হারিয়ে যাবে । পরবর্তী প্রজন্মের কবিতা বলতে কি বুঝাচ্ছো ঠিক বুঝছি না । আমি কি প্রজন্ম পেরিয়ে এসেছি? তবে আমার পরে যারা লিখতে এসেছে তাদের কথা বললে, বলতে পারি, ইদানিং অসাধারণ কিছু কবিতা রচিত হচ্ছে, হয়েছে । মাঝে মধ্যে খুব ঈর্ষা বোধ করি! তবে, অনেকের লেখা যেন শব্দের চোরাবালিতে পড়ছে । আগে দেখো, কবিতা হৃদয়ে টঙ্কার তুলছে কিনা; ‘অন্তর বাজে তো যন্তর বাজে’ ।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর