জিয়াবুল ইবনের ‘কোনো বাইপাস নেই’ থেকে আটটি কবিতা

0

জাতিসত্তাজিয়াবুল ইবনের 'কোনো বাইপাস নেই'

পাথরকুচি আমার বাগানের সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই বলে
কামিনীকে সংখ্যালঘিষ্ঠ বলিনি
বলিনি, তুই পাথরকুচি হয়ে যা
কিংবা পাথরকুচিও তো বৃক্ষের উপজাতি নয়

গোলাপ প্রিয় হলেও আমি তার কাছে বিকিয়ে যেতে পারি না

হীরের খনির খাদগহিনে পাওয়া

কালো
ক্রমশ কালো
কালো পিঁপড়ের পিলপিল, কালো আমাদের কথা

কথাগুলো
হীরের খনির খাদগহিনে পাওয়া ভয়ংকর বোমা
ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে বিষ ঢালে তাহাদের লোভী কানে

নাইজেরিয়ান শিশুটির মতো
ট্যারাচোখে তাকায়
হাড় জিরজিরে
ভবিষ্যৎ

অথবা সার্বভৌম ভূমির সম্ভাবনা নিয়ে
মানুষে মানুষে বুনোফুলের সশস্ত্র রেণু
স্পোরগুলো গহিন জঙ্গলে একেকটি খুদে গেরিলা
অতঃপর একটি মুক্তিকামী জাতির অগ্র-বাহিনী

আর আমাদের সেনাগণ
জাতিসংঘের কনডম হয়ে গিলে সঙ্গম লাভা
আহা! ডগমগ আনন্দ। আহা…

ছায়ার দৈর্ঘ্যে অসমাপ্ত একাত্তর

জল বায়ু আগুন ও মাটি-পারস্পরিক প্রেম-বিরহে
কেউ আর নেই যখন নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে-তখন আমি তোমাকে
পেলাম

অথবা আমাদের সম্পর্কের পুরনো পরমাণু ভেঙে ভেঙে
সৃষ্টি হলো ইলেকট্রন প্রোটন নিউট্রন

আমরা মানুষ হতে চাইলাম-হয়ে উঠলাম আদম আর হাওয়া

ধরো, আমি জংলিঘাস

ধরো, আমি জংলিঘাস। তুমি সূর্যমুখী। আরজন ঈগলপাখি
তবু প্রত্যেকেই আমরা মানুষ

অস্তিত্বের দায়ে খাদ্য খুঁজতে খুঁজতে
একদিন নীল নদের কূলে পেয়ে যাই আশ্চর্য উর্বর মাটি

মন মেশাই মাটিতে
শ্রমে
ঘামে
ধানে আর গানে

মাটির নিচে তেল-তেল গন্ধ আর বিশুদ্ধ পানির প্রবাহ। আমরা প্রতিটি টোটেম একাই তার সাম্রাজ্য চাই। টেরাকোটায় ফুটে ওঠি একেকটি জন্তু-জানোয়ারের যুদ্ধ। কেউ কেউ ঘরের দেয়ালে সাজাই প্রাচীন কোনো যুদ্ধের শিল্পরস

ধরো, আমি হরিণ। তুমি কালো গাভি। আরজন বাজপাখি

একদিন
আমাদের টোটেম বিশ্বাস
ভেঙে দিয়ে বাজপাখিটার রাজা হয় মেনেস
আর আমাদের মন-মগজ মুঠোয় পুরে মেনেস হয়ে ওঠে দেবতা হোরাস

আমরা তবু টিকে রই, একটি বিশুদ্ধ যুদ্ধের অনিবার্যতা বুকে

একটি সমুজ্জ্বল সূর্যের দিকে

এ মুহূর্তে নিজেকে পুরোপুরি উন্মোচন করে দিলে বন্ধুর প্রজাপতিটাই মুছে যেতে পারে

এখন তো সন্ধ্যামাত্র-মিনারে মঙ্গলালোর কর্মসূচি

একটি রাত্রির যা যা উপকরণ লাগে, তা সব ডাউনলোড দিচ্ছি

রাত্রিকে ধুম বৃষ্টিতে ভিজিয়ে একটি সমুজ্জ্বল সূর্যের দিকে উস্কে দেয়াই আমাদের কাজ  

গুম

০৩ নভেম্বর ২০১৩। নারায়ণগঞ্জ। প্যানটেক্স শ্রমিক হত্যার দশ বছর। শহীদ মিনারে সমাবেশ চলছে। প্রতিবাদ সমাবেশ। সেখানে আবারও বিচার চাইছেন বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক অঞ্চল থেকে মিছিল এসেছে। যে মেয়েটার নিতম্বে মাংস নেই; পুষ্টিহীন লিকলিকে শরীর নিয়ে আজো সে মিছিল করছে। রাষ্ট্র জানে এ মিছিল ব্যারিকেড ভাঙবে না; তবু ধুকপুক ধুকপুক কাঁপছে তার বুক

সমাবেশে আমরা কবিরাও উপস্থিত। আমি আমার এক কবিবন্ধুকে বলছি-ওই যে দেখছেন, ওই যে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান ধরছে মেয়েটা, ও তো মরেনি! সেদিন গুম হয়ে গেছে শুধু!

আচ্ছা, আমিই কী গুম করে ফেলেছিলাম ওকে! আমারই চোখের সামনে, কিছুটা নড়াচড়া, তারপর নিথর! এ বিষয়ে আমি তখন কাউকে কিচ্ছু বলিনি। আমি জানতাম, দশ বছর পর কেউ বিশ্বাস করবে না, এখানে আমজাদ হোসেন কামাল ছাড়াও অনেক লাশ পড়েছে

সুড়ঙ্গপথ

বিষকাটালি আর ঢেঁকি ও গিমাশাকে ছাওয়া এই হালট যেখানে গুটিয়ে নিয়েছে একাকিত্বের লেজ, সেখানে-দাসের ছাড়াবাড়িতে একভিটে ঘর

ভোরের খিড়কি খুলে তুমি আড়মোড়া ভাঙো। আমিও ভাঙতে চাই তোমার নাকফুলের সীমা। আংড়ার ছাই দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে যাও তুমি পুকুর ঘাটে। আমি তো খুব বেশি দূরে নই, তোমাদের উঠোনের শেষপ্রান্তে কাঠমালতীর ডালপাতায় ঘেরা সুড়ঙ্গপথ আমাদের এপাড়াকে নিয়ে যায় বড় রাস্তার মোড়ে

আমি চেয়ে চেয়ে দেখি-চালতাগাছের ফুলবতী স্পর্শে তুমি ঈর্ষায়িত হও। আমি চেখে চেখে দেখি-পরাজিতা রাতের শিথিল বসনের ফাঁকে ফাঁকে ছোপ ছোপ উজ্জ্বল অপূর্ণতা

হোয়াইট হাউজের পাপ

থুত্থরে এক বুড়ি-বটগাছের পিঠে পাকা চুল হেলিয়ে দিয়ে পাপ লিখছে
পাতায়। পাপগুলো সব সাদা-হোয়াইট হাউজের মতো-কোনো রঙ নেই

কেনো রঙ নেই?
এই বেগে নাসা উড়াল ডানা

নীল আর এডুইনের পা আজো পানি পেল না চাঁদে

প্রকাশনা সংক্রান্তঃ
কোনো বাইপাস নেই । জিয়াবুল ইবন । প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ । প্রকাশকঃ বেহুলাবাংলা । প্রচ্ছদঃ রাজীব দত্ত । দামঃ ১১৫ টাকা ।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর