নিখিল নওশাদের ‘এটি একটি চিৎকার’ থেকে আটটি কবিতা

0

ভূমিকা
নিখিল নওশাদের 'এটি একটি চিৎকার'
কবিতার মতো এমন সত্য শিল্পের কাছ থেকে কেন দূরে সরে যাবে মানুষ? আধুনিকতার নামে বুর্জোয়া ধোঁয়াশায় বুঁদ হয়ে এই সময়কাল কেবলই জন্মাচ্ছে তবে জীবন বিবর্জিত কাব্যিক প্রহেলিকা? নির্মাণের নামে বিশেষণের বেহুদা বিষে জর্জরিত মুমূর্ষ কাব্যের মেকি চিৎকারে ঢাকা পরে যাচ্ছে কি প্রকৃত জীবনের কবি? দুর্বোদ্ধতার স্বীকৃত শাসন কি তবে বিক্রি হয়ে গেল অবোদ্ধতার প্রতারণার কাছে? চমকের কাছে হেরে যেতে বসেছে কি গহীনের মাতাল দুন্দুভী? কবি যশোপ্রার্থিরা কি করে হয়ে উঠছে রাষ্ট্রবান্ধব সম্মানিত সুনাগরিক?

এইসব প্রশ্নকে সামনে রেখে রচিত হয়েছে ‘এটি একটি চিৎকার’। এ কবির কবিতা পড়বে কেবল সে কবি, এমন নীতিকে নাকচ করে এ গ্রন্থ পৌঁছে যাক সাধারণ পাঠকের কাছে। কেননা সাধারণের জীবনকে অনুবাদ করে এখানে আঁকা আছে সাহসী চ্যালেঞ্জ– কবিতা রচে মানুষ, কবিতা পড়ে মানুষ, সুতরাং কবিতা মানুষের জন্য।

সাক্ষাৎকার

হামি টয়লেটে বাথরুমে ছোটঘরে যাই ন্যা
হামি হাগি
হামি মহিলা মেয়ে আর নারী কয়্যা ডাকি ন্যা
কই মাগি

সামনে ঈদ অ্যালো, জানডা জ্বল্যা গ্যালো
গুয়ার লুঙ্গি গ্যাছে ছিঁড়্যা, কচ্চি আল্লার কির ্যা
দুই মাগিই খারাপ, নটি
কামাই করিচ্চে কোটি কোটি…

হামি ছোটলোক, কুত্ত্যা, মদ খাই, মদুবনে দেকি ন্যাংটা ছবি
হামার ন্যাকেট ভাষাত কুনো কবিতা হবি ন্যা কবি?

শ্যামলী আমার মেঘরং বোন

এই বুকে লোম নাই বলে
সীমার বলেছো পিতা!

আমি কি অশ্বক্ষুর, উত্তপ্ত সিলিকা?
স্ববক্ষে গড়েছি তাঁবু, যাযাবর;
ভিনদেশী কোন নাবিক নাবালক!

মগজে মশলার ঘ্রাণ, ঢাকাই মসলিন।
নুড়ি-কণা ঠোঁটে কেন যে ঘুমন্ত বলাকার
চাঁন চাঁন আলো?

দূউউ উ র দূরে… রাতের বৈঠা হাতে
বয়ে চলে মাঝি আঁধারের নাও…
ও ও ও ওওও মাঝি, আব্বাকে বলো–
পৃথিবীর সমস্ত সীমারেরই নিজস্ব নাম থাকে
আর থাকে তুলোওড়া মন।

তারা হারিয়েছে শ্যামলী
মানে, মেঘরং বোন…

ময়নাতদন্ত শেষে

এখন; ঘটনা হচ্ছে, ইনিয়ে-বিনিয়ে
মিথ্যার ভয়েই সত্যে চুলকানি তোমার।

মানুষের শরীর কেটে কেটে
সেই এক নামজাদা ডাক্তার
খুঁজে ফেরে মূলত মানুষ।
মানুষ…

প্রায়ান্ধকার কোন শহুরে ভোরে
বেরিয়ে যাবে সে পথে।
স্বাস্থ্য সংস্থার এক গম্ভীর সভায়
টকটকে বাক্যে শুরু হবে কথা
–কোন মৃত্যুই মানুষকে মারতে,
মাসে মেরে ফেলতে; মানে…
মানুষের কোন শব হয় না হে!

নতুনেরা হাসবে, দাঁত।
পুরনোরা হাসবে, ঠোঁট।

ডাক্তার বুঝে যাবে
দাঁত ও ঠোঁটের চন্দ্রবিন্দুদ্বয়ে
কি অদ্ভুত সেকেলে মিল!

ছবি-এক

এভাবে নিজেই আমি হয়েছি ছবি।

পিকাসো আমায় দেখে চমকে ওঠে। তাঁর তুলি থেকে প্রেরণার দাগ গেছে টুটে। আমার বুকে তিনি এঁকে দেন ঘাস। ঘাসের শিকড় কি বড়? পাশ! হলে চলে যেতো হৃদয়ের কাছে। সেখানে আরেকখানা দূর্বা তো আছে। তার সাথে হতো তার মিতালী। প্রবাহিত রক্তের রেল খালি। ছুটে যেত ট্রেন। মানুষের ব্রেন। বোঝে না ট্রেনের মানে। যাত্রীরা জানে।

মানুষ ও যাত্রীর মাঝখানে দাঁড়িয়েছে কবি।
এভাবে নিজেই আমি হয়েছি ছবি।

আত্মপরিচয়

যখন গড়ছিলে উৎপল ঘ্রাণ…
সারিবাঁধা শব হাসে। ভাসে। ম্লান।
ঘন রাত। আঠালো আঁধার। নাকে কর্পূর।
ভাঙ্গে শুষ্কতা। পা, পাতা। চোখে ভরপুর।

এই ভয়টুকু শেষ হয়। যত ক্ষয়!
শীতলা শঙ্খ মানে গান। স্নান।
সেরে রোদ। হাসে খোদ। হে স্নাতক।
জানে জহুরি। এই মুহুরি। অবিশ্বাস-জাতক।

বোন

তবু আছে আকালের টুঁটি চিপে
যে কপাল রাঙ্গে না গোধূলি টিপ এ
বারুদের বাংকারে ফিরে গিয়ে
যাপনের দিনরং তুলি নিয়ে
বাঁধনে বেঁধেছে যে রাখি দিয়ে…

জীবন

যতসব সরকারী স্বাধীনতা। ধুর!
জীবন চালাতে গিয়ে ক্ষয়ে গেছে নাকফুল
আমার বধূর …

চলো উত্তরে;
আকালের আংতা পরে বাঙালী বুকটা চিরে নারী তুমি করে দাও পথ
কাঁধে সাম্যের সওগাত নিয়ে আসিতেছে কৃষক তাবৎ!

সময়

এখনো ঝরছে ব্রুনোর ছাই
ছাপা হচ্ছে গ্যালিলিওর কবিতা

সভ্যতার বুক খুলে ঢুকে গেছে
নেশায় অন্বেষী যুবক –

“তবুও পৃথিবী ঘোরে” লেখা লিফলেটে
যোনীর রক্ত মোছে রাতে
আরোপিত নূপুরধারী এক
বয়েসী বেশ্যা।

এতদূর এগিয়েছো বিজ্ঞান?
যেন তুমি মানুষের না!

প্রকাশনা সংক্রান্তঃ
এটি একটি চিৎকার । নিখিল নওশাদ । প্রচ্ছদঃ তৌহিন হাসান । প্রকাশকঃ অনুপ্রাণন প্রকাশন । মূল্যঃ ১৫০ টাকা ।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর