ফারহান ইশরাকের ‘প্লেট ভরতি সেদ্ধ তারকাঁটা’ থেকে কয়েকটি কবিতা

0

ফারহান ইশরাকের 'প্লেট ভরতি সেদ্ধ তারকাঁটা'

ধানের পাতার নিচে এক প্রস্ত দুধ আসে, কে-দেখিতে পায়
ট্রান্সমিটারঘন সন্ধ্যা উড়িয়ে কোথায় থামবে ডানা, বল না-হে
বিজলিমিটার-ঘেঁষা কলাথোর পাখিÑছলনারেশ রেখে!
কিছু তো বলি নাই, তবু বলেই ফেলল কাক: ‘এত যদি
গ্রামচাটা ভাবের ফোটানি, বাঁশের মাথায় উঠে
এক আকাশ সুর ভাঁজছ না-যে? কঞ্চিপেঁচানো বাঁশঝাড় দেখে
তারই পেটে আস্তে যাও ঢুকে, যেন তুমি আবছা এক রূপগুঞ্জরণ!’
শিল্প কপচানো হালকা গোলাপি বুক? উল্টানো ট্রাকের চিৎকারই
মনে হলো তায়! সস্তায় বাড়ি ফেরা কোন গল্পেরই আবহপট
শেকড় ফেলে যে-পালায় গোড়ার কেচ্ছা তার অবিকল মনে থাকে?
তবু!
এক কিস্তি অন্ধকার বলক দিলে নখের গোড়ার দিক এতটা যে ভারীÑ
হয়ে আসে! জেনারেটর একটু বিরতি দিলে ধানের পাতার নিচে
এক প্রস্ত দুধ আসে, লোডশেডিং গল্পমজমায় কে শুনতে পায় সে রটনা!
মাথার ভার নামিয়ে রাখছি ভাই, সুইয়ের নাকফোঁড় কেটে অ-স্থানে
ঢুকে যেতে দাও-শিশ্নচালানো অস্থিরতায় শব্দবলাৎকার, না হয় একটু
থামুক, থামুক! হা, পেচ্ছাব আর গোসল সেরেই ঘুমাতে যাচ্ছি তাহলে।

২৩

এত যে স্পি্লন্টার! হাওয়া বলছে সেবনের আশায় কেউ
না-নামুক পথে। রাস্তা কোথায় যাবে সময় তা বলতেও
পারে না।
বোমার বিরুদ্ধে একটা কাছিম নিজেরই ডিম ছুড়ে
মারছে, যেহেতু জলস্থলের সীমা না-না করছে পরস্পর
পানের পিক মুছে শান্তিবুড়ো কেন যে আলোর ডিব্বা
ফেলছে ড্রেনে! সেখানে তো কাঁচা ভ্রুণও পড়ে থাকতে
পারে!
আঁধার বলছে সুপ্রভাত, মানুষ তবে আত্মহত্যাই করুক!
চলে যাওয়ার ব্যাপার এমন, ব্যাগ-সুটকেস গোছানো থাকে
না। প্রাণবায়ু তুলে দেওয়ার আশায় শ্বাস টানছি একটু
বেশিই।
সাফ করছি ঘরের আসন-আসবাব, ভদ্রলোক যদি দয়া
করে কথা বলতে চান, মূল কাজ সেরে নেওয়ার আগে।

জান কবজের আগে মৃত্যু কি চেয়ারে বসেন?

৭১

মৃত্যুদ্বীপ। ডাকাতের অস্ত্রের ঘায়ে কিছু লোক রক্তাক্ত পড়ে আছে
একজন এখনো জীবিত, সমান দূরত্বে শেকলে বাঁধা আমার স্বরূপা
সিদ্ধান্তের দ্বিধাচুম্বকে থরো থরো, আমি কাঁদছি, মধ্যবিন্দুতে।
মুমূর্ষূ বলছে, মুখে দাও অশ্রুচুমুক, জলের কুদরতে জেগে উঠব
প্রেমিকা বলছে, হরণ-প্রাক্কালে অভয়ের চুমু দাও, তাহলেই পাবে।
কে আমি? মুমূর্ষুর আকুতি ভুলে চোরাটানে চুম্বনের দিকেই ছুটে যাচ্ছি
না হলে আমিও মরব, প্রতীকের ভাগাড় থেকে জাগতে পারব না।

৮২

কে আছো একটু জোড়া দিতে পার
ভেঙে পড়ে গেছি!
টুকরো কুড়িয়ে একটু আঁঠা মেরে দিলে
উঠতে পারব!
এসেছিলাম ব্যক্তিগত ছায়াগুচ্ছ গুটিয়ে নিতে
যেখানে তারা পড়ে ছিল।
একটু জুড়িয়ে দিলে ভেজা বারুদের চোখে
আবার একটু স্ফুলিঙ্গ তুলব!
কে-আছ একটু জোড়া দিতে পার,
ভেঙে পড়ে গেছি!

১৫

জুতার চিকন খোলে জমা রেখে শাদা অন্ধকার
মোজা দু’টি ছিটকে ফেলে আস্তে করে হয়ে যাব বার
পথকে বলেও যাব না খুলে রেখে প্রধান দরোজা
মাগুরের ঝোল খেয়ে এক দিকে চলে যাব সোজা
দেহের কোরক খুলে বেটে-পিষে দিয়ে যাব ভাগ
করপুটে মর তৃষ্ণা পোষাবে না, এটুকু পরাগ!
ছলনা রশ্মি দিলাম তাতে জ্বলে ছায়ার গুদাম
কিছু পৃষ্ঠা কাটিকুটি ছুঁয়ে দিও কাগজের ঘাম।

১৯

সার্জারি করে পেট ছোটো করতে যাওয়ার পথে
পিঁপড়া এবং দরজির সাথে দেখা, অলস
লোকটার।
ডিসিশন ঠিকই আছে, একটু ভেবে
বলল পিঁপড়া
সোনার চামচেও একদিন জং ধরে যায়!
আপসোস করে দরজি বলল, ক্যা রে ভাই
আমি থাকতে অ্যাদ্দুর না গেলে হয় না?

দুই পক্ষের কথা শুনে লোকটা ধরেই নিল
সার্জন নিশ্চয়ই তৃতীয় মতের কথা বলবে।
তার কাছে আল্টিমেটলি এ-ই মনে হলো:
পিঁপড়ার পেট টিপে মধু নিঙরানোই শ্রেয়তর।

১৪

দুই পাহাড়ের মাঝ বরাবর সরষে বোনা মাঠের লকেট
শামুক তারে একটু চেটেই জিভ চালাল চূড়ার দিকে
সেই হারামির লোভের গোড়া খোলসে-নদীর কাদায় নত
ঠিক দেখেছি ক’দিন আগে জলের ফেনায় ছন্নছাড়া।
পা-চাটুনে ওস্তাদি তার নাভির নিচে লোহার ছোরা
কামের ফলা বাড়ায় দেখ চুতমারানির লবণপোড়া
ক্যালসিয়ামের খোল কুঠুরি উপচিয়ে যায় কীসের লালা
মুখ বুঁজে কার মন্ত্র পড়ে নামের জপে যম পালাবে!
শামুক রে তোর গুষ্টি মারি চার দেয়ালে সাধুর দশা

২৯

মাথার নিচে ছুরি গুঁজে ডিমের ভেতর শুয়ে ছিল প্রকট পাগল
খোসা ভাঙতেই জানা গেল সে আসলে কুখ্যাত খুনি। ডিমটাও
সূর্যের চারদিকে ঘুরে রোগীর শিয়রে আপেল সেঁজে চক্রান্ত
করছিল একা পরিসরে।
অক্সিজেন মাস্ক যা করেছে, মৌলিকতা নিয়ে কারো প্রশ্ন ছিল না।
দিনরাতের সমঝদারিতা চন্দ্রকালিমাও ঢেকে রাখতে পারে
কেবল এক বটপাতার ছত্রছায়া-ই প্রমিতার্থ নির্ধারণ করে দেবে
কুসুমিত সন্ত্রাসী সে সুযোগে ছাড়া পায়, দুনিয়ার এমনি দস্তুর!

প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ । প্রকাশকঃ কাঁটাচামচ, ৫০ কোমরউদ্দিন লেন, ফকিরাপুল ঢাকা ১০০০ । কপিরাইটঃ কবি । প্রচ্ছদঃ নাজিব তারেক । বর্ণবিন্যাসঃ মাসুদ, খসরু । মুদ্রণঃ প্রিসাইজ প্রিন্টার্স, ৮৫/১ ফকিরাপুল, ঢাকা ১০০০ । আইএসবিএন: ৯৭৮-৯৮৪-৩৪–০৩৬৮-১ । ১৭৫ টাকা ।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর