মাজুল হাসানের ‘ইরাশা ভাষার জলমুক’ থেকে আটটি কবিতা

0

পাখিবিশারদ মামাজুল হাসানের ‘ইরাশা ভাষার জলমুক’

পাখি মানচিত্রের দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব রাগাভিমানগুলো এখনও সবুজ
বুঝতে হবে—ওপাশটা এখনো বনটিয়া-ধনেশদের গুপ্ত আবাস
এমনিভাবে পাখি মানচিত্র থেকে জেনে নেয়া যায় সিমা’পুর প্রতি
কিশোরবেলার যৌনফ্যান্টাসি।
মা আমার পাখিবিশারদ। বলেছিলেন—জীবনে এমন সময় আসে
যখন লৌহবৃক্ষেও ফুটো করে কাঠঠোকরা
এখন আমি মধ্যদুপুর
গুপ্ত জলমুকের মতো শরীর কুচকুচে কালো
আমার প্রতিটি গর্ত থেকে শহরের দিকে উড়ে যায় কলকণ্ঠ বায়স

প্রিয় বোনটি

শহর মাত্রই পেরিয়ে যায় একটার পর একটা সুউচ্চ তোরণ, নারঙ্গী বন
ওখানে একদা মেষের লোমের মতো জমকালো রোদ, ইহজগতের মদ
মাতাল ট্রাকসম মানুষ ছুটছে ঝুম-অন্ধকার থেকে আলোকিত গোলক
ছেলেও আছেন, পিতৃহন্তারক-বাজার থেকে এসেছে ঘাতকের আস্তাবল
শিশুর আলজিভ থেকে দুধের বোটা ছাড়িয়ে মা হয়েছেন রাত্রি রোহিণী
লুপ্ত আস্তাবলে দুলছে ঘোড়ার সাদাকালো জীয়ন-লিঙ্গ। রস ঝরছে রস
শুধু প্রিয় বোনটি পাজামায় ক্ষোভ আর ভোঁতা ব্লেড রেখে শিখে নিচ্ছে
গেরিলা প্রশিক্ষণ…

হাইওয়ে

গেন্ডারি ক্ষেতে প্রেমিকাকে দলাই-মলাই করে আমি বায়ুশলাকায়
উৎপন্ন করেছিলাম ভ্রমরগুঞ্জরন। ঘুরঘুর হাওয়াকলে
ঘুরেছিল বিজলিখেলা একদিন শহর-উপকণ্ঠে।
এরপর নৈনিতাল। একটা মাদি ভেড়ার উলেল স্তন শুঁকে
বিনয় খুঁজে পেয়েছিল ঈশ্বরের বিশ্বাস। অথচ তার রৌদ্রজন্ম হয়েও
মনে ছিল লিঙ্গের পুনরুত্থান, জয়নিশানা উড়াব বলে
অন্য প্রেমিকাদেরও বারবার নিয়ে গেছি অরণ্যশৃঙ্গে
যখনই জয়নিশানা ওড়ানোর প্রয়োজন পড়েছে। ছুঁয়ে দেখেছি
চিত্ত-সবুজ এবং হরিৎ-সবুজ দু’বোনকে পাশাপাশি ফেলে
আঙুলে গেঁথে, শোষকাগজের মতো চেয়েছি চোখে জীবন ঘষে নিতে
অদ্য মেঘজন্ম। এখন আমার কোটরসহ মণির রঙ অগ্নিপাটল
সমস্ত চিত্ত-সবুজ ও হরিৎ-সবুজ নিয়ে
আমার প্রেমিকারা পাড়ি জমিয়েছে সুদূর হাইওয়ের দিকে…

ইউটার্ন

হেডলাইটের আলোতে হাইওয়ের আত্মা পড়ছি ভৃগু
বলেছি তো—বৃষ্টির নাম নাছোড়বান্দা। অথবা ডেডএন্ড।
ওকে তুলে নিয়েছি লোহারপুলের কাছের রেলক্রসিং থেকে
পেছনের সিটে বসে বসে শুধু ঘামছি এমত তপ্ত হাওয়ায়
দেখছি রেইনট্রির সারি, নদীর কোমরে ঢুকে যাচ্ছে লঞ্চ
একবার খুলছি আরবার লাগাচ্ছি ফাউন্টেন পেনের ঢাকনা
কাছেই সত্যের মতো নীল পোড়াচ্ছে জমাট অন্ধকার
মেয়েটির চোখ, নাকি গলে যাচ্ছি আমি—বুঝতে পারছি না
নিরালা মোড়ে ইউটার্ন নাও ড্রাইভার। বহুদূর দহগ্রাম…

পাঠশালা

লোকে বলে, ওটা ঈশ্বরের বাড়ি, যিনি ঘুঙুর কি
মোটরদানা থেকে সৃষ্টি করেছিলেন আপেল-পৃথিবী
জমিনে সেঁটে দিয়েছিলেন পাহাড়, স্তনকামনা—
.                                  পিপাসা খররৌদ্রের
অতএব আমাকে যেতে হয়েছিল প্রমিত উপাসনালয়ে
বাঁধানো খিলানের কাছে
সেখান থেকে ফিরে এসেছিলাম কতগুলো উভলিঙ্গ হুর
আর তাম্বূল ঐশীবাণী নিয়ে
বস্তুতপক্ষে উপাসনালয় থেকে ফিরে এসেছিলাম
রংজ্বলা ছাতা মাথায়—বৃদ্ধ
অথচ জলসাঘরে আমি যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছিলাম…

লোকালয়

লোকালয় লিখলাম। উজ্জ্বল গাড়ি চলে গ্যালো নাশপাতিদের
আয়ুরেখা বরাবর। খণ্ডবিখণ্ড মানুষগুলো হয়ে গ্যালো জলমুক

পণ্ডিতরা বললেন—সৃষ্টির মূলেই অরূপ কুন্দফুল; যৌনচেতনা
সেহেতু তুমুল সেক্স হলো ম্যাচ গড়াপেটার মাঠে; শ্মশানে
বধিরের ভোকাবুলারি থেকে যথারীতি শব্দ হলো না কোনো
তার মানে এই নয় যে, আমি নৈঃশব্দ্য লিখতে চেয়েছিলাম

ভূমিকম্পের আগে দিনরাত অস্বাভাবিক আচরণ করে কুকুর
শুনতে পায় পৃথিবীর তলপেট মুচড়ে ওঠা সতর্কীকরণ হুঙ্কার
তাই বলে আমার বৃষ্টিভেজা বারুদের মর্মার্থ উদ্ধারের জন্য
কুকুর হতে বলব না। বলছি না লেলিহান চুল্লিফল খেতেও

শুধু আপনাকে রপ্ত করতে হবে আহত-অহঙ্কার
     এ ডিকশনারি অফ ননক্রিয়েটিভ ভুকভুক

শরীর

মাথা দিয়ে মেঘ-টার্বাইন ওড়ে, তলপেটে বিদ্যুৎ
৩ ফোটা বেনোজলসহ ঘুরছি ১ ফোটা আমি
দ্যাখো কিংকর্তব্যবিমূঢ় গোলাপ; মুগুরমঞ্জুরি
‘ফেরা’ এই ২ অক্ষরের মাঝে বেমালুম লুকিয়ে থাকে
ঘননীল পূর্বজন্ম এবং সমুদ্রযাত্রার রোমাঞ্চ; উৎকণ্ঠা…
সমুদ্র ১টি ডাকঘর, নক্ষত্রকে বলছি স্মৃতি-উদ্ধারক পোশাক
বন্ধু, সুখী মানুষের কনসেপ্টই জগতে সবচাইতে ক্ষতিকর
ফুঁ দিলাম। দুলে উঠলো অ্যালিসের ল্যাবেরিন্থ
কাম ও বার্হস্পত্য দর্শনে দুলে উঠছে রোববার
শরীর এখানেও একক ও স্থির…

ক্রিসেনথিমাম

ক্রিসেনথিমামের একরঙা ড্রয়িংয়ের কোনোটাই আমার নয়
আমি শুধু টাইপরাইটারের সাথে জুড়ে দিয়েছি জিরাফের পা
এইসব পুষ্পদাম, সুগোল বৃন্ত, হলুদ পরাগ—চুরি করেছি
পিরামিডের জেল্লা আর ভিন্ন স্বর ও সঙ্গমভঙ্গিমা থেকে
কিন্তু ক্ষুধার্ত শব্দটি ছাড়া ঋণস্বীকারের কোনো অভিপ্রায় নেই
(একদা রবীন্দ্রনাথ অস্বীকার করেছিলাম; নিয়েছিলাম কাদম্বরী)
এখন দ্রবণ-জারণের সংজ্ঞা মুখস্থ করা মূল্যহীন; অ্যাবসার্ড
সড়ক ডিভাইডারে শুয়ে থাকা উদোম পাগলের মতো
ষষ্ঠাঙ্গ ও অষ্টপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে হয় জীবনকে, জীবনের মরিচবাতিকে

কংক্রিট পিষে চলে যাওয়া লালসা থেকে জন্ম নেয় নতুন ক্রিসেনথিমাম…

কবি মাজুল হাসানের তৃতীয় কবিতার বই ‘ইরাশা ভাষার জলমুক’। প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। প্রকাশকঃ চৈতন্য। বিনিময় ১০০ টাকা।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর