তিনটি কবিতা । পার্থ অগাস্টিন

0

নক্ষত্রবিলাস
 
আরও বিস্ময় নীলে– নীল নক্ষত্র;
গভীরে ঝুলে থাকা স্ব-কৌশল;
তবুও চিত্রকল্পে শূণ্যতা
বিষণ্ণ শক্তির মতো
অনুসরণ করে কারো।
পুতুলের মতো
নির্ভয়ে
দাঁড়িয়ে
আমি দ্যাখি, কতো প্রাণের দোল! কতো
ছিটকে আসা
তীব্র অন্ধকার
আকাশ তাদের সঞ্চয়ে রেখেছে সেই
কবে থেকে; এ এক মহাশূন্য মহিমা!
যে পাখাহীন নক্ষত্রগুলো
ঝরে গেছে
বহুকাল আগে;
মাঝে মাঝে
ভয়ে ভয়ে কথা হয়,
তাদের সাথে—
“তাহাদের সাথে”…!
 
অতঃপর অবাধ্য সাহস
বিকল নক্ষত্রের
গভীরে
ঘুমিয়ে পড়ি
একগুচ্ছ আকাশ বুকে নিয়ে। অজস্র
উল্কাবৃষ্টির তোপে,
আমার ঘুম
ভিজে যায়…
 
রাতের মসৃণতায়,
সমস্ত আলো-আঁধারি খেলের উৎপাত
শেষে
এই ক্ষুদ্র শ্রীকুঞ্জে
তবুও ভোরের আশায়
বুক টানটান
কাচের সূর্য!

 
 
কীর্তন খোলা থেকে
 
দেহদ্ভুত সেজে আছে- কলিকাল
প্রেমাচ্ছন্ন ঘোরে
 
শ্বেত কঙ্কালে বিষাক্ত নাগ
তবু অনন্ত সাধ, অতৃপ্ত বায়ু বয়
সমান্তরাল ।

ছুটতে ছুটতে কত দূর- তারারাজ্য…
একহাত উড়ে যায় গুঞ্জন
ব্রাত্য বাতাস।
 
মন কি স্নানঘাট তন্দ্রায়?
ঘুম ঘুম মন…
ওহে মন!
সঙ্গম দুজনার…
 
বহুদূর যেতে যেতে এসে থামি পথে
 জ্বলছে ধূলো, নগ্ন পায়ের তলে
পা আমার ভ্রমণের ইতিহাস।
 
রক্ত মাদিরায় নৃত্যরত সিংহনাম
দেহেজুড়ে তার চিত্রলীলা অপূর্ব কাম!
 
 

গুপ্ত আর্তকোয়াক
 
সমূহ সম্ভাবনায় বৃত্তবন্ধী লোকালয়-
উপচানো জলের শ্রুতি;
সাইরেন কাঁপলে ধোঁয়ার জালে আটকে যায় নতুন প্রগতি।
 
উজ্জ্বল নক্ষত্রপথে ছুটে যাওয়ার বাসনায় কেন প্রাণবিসর্জন?
 
নিবিড় গভীরে হৃদপিণ্ড
অমার ঘোরে গোঙায়।
 
সাইক্লোনের ঢঙে,
 বিদ্ধস্ত ঘাসফড়িঙ
 ছুটে যাও মহাবনে একা একা
 পেন্সিলে আঁকা আয়ুরেখা বরাবর।
 
সূক্ষ্ণশব্দে পর্বত নড়ে না
ওহে গুপ্ত আর্তকোয়াক!

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর