কবি রুহুল মাহফুজ জয়ের সাথে কথোপকথন

0

Ruhul Mahfuj Joyকবিকে আশাবাদী হতে হয় । প্রেমিক হতে হয় । বিপ্লবীর চেয়ে প্রেমিকের শক্তি বেশি ।
-রুহুল মাহফুজ জয়

[ রুহুল মাহফুজ জয় । জন্ম ৩১ মার্চ, ১৯৮৪ । জন্ম-বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক । পেশায় সাংবাদিক । একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসাবে কর্মরত । সম্পাদনা করছেন ‘শিরিষের ডালপালা’ ওয়েবজিন । প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো (২০১৬)। চারবাকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর কাব্যভাবনা ও সাহিত্যের বিভিন্ন দিক। ]

প্রশ্নঃ আপনার গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলারে ভাগ করলেন তিনভাগে আর নাম রাখলেন এক ভাগের, কারণ কী?

জয়ঃ বইয়ের নাম আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো । এটা প্রথম ভাগ । দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের সঙ্গে প্রথম ভাগের একটা আত্মীয়তা আছে । একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত । সেটা বইয়েই পরিস্কার করা হয়েছে । যিনি বইটা পড়বেন, ধারাবাহিকতাটা বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয় ।

প্রশ্নঃ ধরে নিলাম তাদের মধ্যে একটা আন্তঃসম্পর্ক বিরাজমান । তাহলে এই সম্পর্কটা কি পূর্বপরিকল্পিত?

জয়ঃ পাণ্ডুলিপি সাজানোর আগ পর্যন্ত পরিকল্পনায় ছিলো না । আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো সিরিজটার সঙ্গে নাইটমেয়ার সিরিজের যোগাযোগ কীভাবে করা যায়? পাণ্ডুলিপি গোছানোর সময় তা ভেবেছি প্রথমে ।

প্রশ্নঃ এবার তাহলে আপনার কবিতার দিকে আসা যাক । কবিতা লেখার কারণ কী? উদ্দেশ্যমূলক নাকি স্বপ্রণোদিত হয়ে?

জয়ঃ উদ্দেশ্য নিয়ে কখনোই কবিতা লিখি নাই । যা লিখেছি বা লিখছি, সবই স্বপ্রণোদিত । কবিতা আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয় । কে লিখিয়ে নেয় সে প্রশ্নটি আসতে পারে । আমি বলবো মুহূর্ত আমাকে কবিতা লেখায় । কবিতার মুহূর্তটা খুব ইম্পর্টেন্ট । কবিতা লেখার কোনো কারণ নাই । শৈশব থেকে কবিতা পড়তে ভালো লাগতো । এক সময় মনে হলো, আমিও তো লিখতে পারি । তবে সিরিয়াসলি কবিতা লেখা শুরু করেছি ২৭ বছর বয়সে । একদিন এক কবি আমাকে বলেছিল, “কী বালছাল লিখিস! সব কোলাজ । নিজের ভাষা কই? তোর কোন দশকেই জায়গা হবে না ।”  এটা সে বলেছিল আমার ‘স্নানঘর’ কবিতাটা পড়ার পরে । ‘স্নানঘর’ লেখার সময়ও আমি কবিতা নিয়ে সিরিয়াস ছিলাম না । কিন্তু ওই কবিতাটার মতো আরো আগের কিছু লেখায় আমার স্বতন্ত্র ভাষার প্রকাশটা ঘটেছে । তার ওই কথার ভেতরে কিছুটা ঈর্ষা ছিলো । এটা টের পেয়েই আমি সিরিয়াসলি কবিতা লেখা শুরু করি । ওকে ধন্যবাদ ।

প্রশ্নঃ তাইলে ওই কবি আপনারে প্রভোক করছিল?

জয়ঃ হ্যাঁ, ওই কবি আমাকে প্রভোক করেছিল । সেটার ফলাফলটা ভালো হইসে ।

প্রশ্নঃ তাইলে আপনি অবচেতন মনে একটা স্বতন্ত্র ভাষার ইঙ্গিত পাইতেছিলেন? আপনার কি মনে হয় কারও স্বতন্ত্র ভাষা তৈরি হয় লেখালেখিতে?

জয়ঃ এই প্রশ্নের উত্তর দেবার আগে বলে নেই, আমি দশক বা মহাকাল কোন সময়কে ভেবেই কবিতা লিখি না । লিখি নিজেকে আনন্দ দেবার জন্য । কবিতা আমাকে অফুরান আনন্দ দেয়, সঙ্গে দেয় । যখন কাউকে পাশে পাই না, তখন কবিতার কাছে যেতে পারি । অবচেতনে একটা ভাষা তৈরি হয়েছে । অবশ্যই । তবে অনেকের প্রভাব নিশ্চয় ছিলো । পৃথিবীর সকল কবিই কারো না কারো দ্বারা প্রভাবিত । প্রভাবিত হয়ে সেই প্রভাব থেকে বের হয়ে নিজের স্বর তৈরি করতে পারাই মনে হয় দরকারি বিষয় ।

প্রশ্নঃ তা তো ঠিক । কিন্তু আমি জানতে চাচ্ছি জীবনানন্দীয় ভাষা বা বিনয় মজুমদারের ভাষা এভাবে যে আমরা আলাদা করতেছি, আইডেন্টিফাই করার সুবিধার্তে; আসলেই কি ব্যক্তি বিশেষে ভাষাটা সেই রকম চেঞ্জ হইতেছে?

জয়ঃ আমি বিশ্বাস করি, কবিতায় কবির স্বতন্ত্র ভাষা তৈরি হয় । বাঙলা কবিতায় জসীম উদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, উৎপল কুমার বসু, শহীদ কাদরী, আল মাহমুদ, রফিক আজাদ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, মাসুদ খান, মজনু শাহ, ব্রাত্য রাইসু, আন্দালীব, ইমতিয়াজ মাহমুদ এরকম বেশ কিছু কবির নাম নেয়া যাবে, যাদের কবিতার ভাষা অন্যদের চেয়ে আলাদা । অবশ্যই পরিবর্তন হচ্ছে । বিনয় মজুমদারের কবিতার ভাষাভঙ্গি, প্রকরণ আপনি আরো কবিতার সঙ্গে মেলাতে পারবেন না ।

প্রশ্নঃ তাহলে দাঁড়াচ্ছে যাঁর ভাষাটা অন্যদের থেকে আলাদা সেই শক্তিমান হয়ে উঠছে । ভাষার ক্ষমতা ।

জয়ঃ জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়লেই বোঝা যায়, ওটা তাঁর কবিতা । কবিতার আগে-পরে যদি ওনার নাম না-ও থাকে, জীবন বাবুর কবিতা চিনে নিতে সমস্যা হয় না । এরকম একটা ভাষাগত যোগ্যতা যখন কোন কবি অর্জন করতে পারেন, তখনই তিনি আসলে বড় কবি হয়ে ওঠেন । এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা । আর পৃথিবীতে ভাষার চেয়ে শক্তিশালী দ্বিতীয় কিছু নেই ।

প্রশ্নঃ আপনার কবিতার ভাষা নিয়ে যদি বলি মানে আপনার কবিতার জার্নিটা আমার কাছে মনে হইছে আপনি আপনি শব্দ নিয়ে ভেতরে ভেতরে গোঙাচ্ছেন…

জয়ঃ আপনার কাছে গোঙানিটা কী অর্থে ধরা পড়েছে সেটা জানতে পারি?

প্রশ্নঃ সম্পূর্ণ ক্লিয়ার করতে পারব না । তবে এটা অনেকটা জিকির করার মতো… অনেকটা হেডব্যাং । বারবার করতে করতে একটা নেশা ধরে যাওয়ার মতোন…

জয়ঃ একজন কবিকে শব্দ নিয়েই খেলতে হয় । সঙ্গে আসে ইমেজসহ নানা অনুষঙ্গ । তবে শব্দের হারমোনিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার কাছে । ইমেজ সৃষ্টিতে ধ্বনি ও শব্দের সিম্ফনিটাও । স্বাভাবিকভাবেই, দীর্ঘ সিরিজ লেখার কারণে হেডব্যাংটা স্বতস্ফূর্তভাবে হয়েছে । এড়াতে পারি নি আসলে । শব্দের জিকিরটা সামগ্রিক কবিতার সঙ্গে মিলে গেলেই সম্ভবত ভালো কবিতা হয়ে উঠে । আবার রিপিটেশনের ঝুঁকিটাও থাকে ।

প্রশ্নঃ এখানে শব্দ বা বাক্যের কোন প্রকার রিপিট হইতেছে না । তবে হেডব্যাং করার মতো একটা উত্তেজনা তৈরী হইতেছে ।

জয়ঃ কবিতা পড়ে যদি মাথা ঠুং হয়, তাহলে তো বিপদের কথা হলো !

প্রশ্নঃ ছন্দে চর্চা করা কবিদের ইমেজ প্রধান কবিদের নিয়ে অনেক অভিযোগ । আপনি তো ইমেজ নির্ভর, ছন্দরে নিয়ে কিছু বলেন । ছন্দের ভেতর যাইতে ইচ্ছে করে না?

জয়ঃ ছন্দের প্রতি আমার কোন অনীহা নাই । ঠিক তেমনি যারা ছন্দে চর্চা করেন, তাদের প্রতিও কোন অভিযোগ নাই । আমি মনে করি, ইমেজ নির্ভর কোন কবিরই তাদের প্রতি কোন অভিযোগ নাই । আমি এখনও দেখি নি ইমেজ নির্ভর কোন কবি ছন্দে চর্চা করা কবিদের নিয়ে বাজে কোন কথা বলেছে । কারণ, তাদের নিজেদের টেক্সটের উপর আস্থা আছে । আপনি যদি ছন্দে লিখেন, তা ভালো ব্যাপার । যখন ছন্দের ভিতরে ইমেজ ব্যবহার করতে পারবেন, তখন আপনি বেশ ভালো । ছন্দ আর ইমেজ যারা একসঙ্গে ব্যবহার করতে জানেন, তাদের আমি আলাদা গুরুত্ব দেব । আর অনেকেই আছেন, কেবল শব্দগুচ্ছকে ছন্দোবদ্ধ করছেন । সেই লেখাটা শরীর-মাংস প্রাণহীন মানুষের মতো কঙ্কালের মতো । ছন্দ ছাড়াও কবিতা হয়, কিন্তু ইমেজ ছাড়া কবিতা শব্দোবদ্ধ কঙ্কাল ছাড়া কিচ্ছু না । আর যারা ইমেজ প্রধান কবিতা লিখেন, তারা ছন্দ জানেন না এই ধারণা করে নেয়াটাও তো ঠিক না । যখন কোনো কবি শুধু ছন্দ ছন্দ জপ করেন, কবিতায় ইমেজের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে তিনি ইমেজ সৃষ্টিতে অক্ষম। সেই অক্ষমতা থেকেই আস্ফালন ।

প্রশ্নঃ গত কয়েক দশক আগেও আমরা কিছু দুর্দান্ত মহৎ সাহিত্য পাইছি এই বাংলায় । তো এখন মহৎ কিছু সৃষ্টি না হওয়ার কারণ কি বলে মনে হয় আপনার?

জয়ঃ মহৎ সাহিত্য কী জিনিস? এইটা আমার কাছে ক্লিয়ার না । আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রকাশের তিরিশ/চল্লিশ বছর পরে গিয়েও যে সাহিত্যের আবেদন নতুনের মতোই থাকে, তরুণরা আলোচনা করে, ওইটাই মহৎ সাহিত্য । যদি তাই হয়, কয়েক দশক আগে বেশ মহৎ সাহিত্য রচিত হইসে বাংলা ভাষায় । এটা সত্য । গত কুড়ি/তিরিশ বছরে খুব বেশি বই বিখ্যাত হয়নি । এটাও মনে হয় সত্য । আশি বা নম্বই দশকে প্রকাশিত হাতে গোনা কয়েকটা বই নিয়ে এখনকার তরুণরা আলোচনা করে । আমার মনে হয়, মহৎ সাহিত্য সৃষ্টির জন্য যে সাধনার প্রয়োজন হয়, তা করতে রাজী নই আমরা । প্রায় সবাই নগদ খ্যাতিতে বিশ্বাস করে । এলিট দৈনিকের সাহিত্য পাতায় নিয়মিত লেখা ছাপা আর সভা-সমিতিতে কবিতা পড়া বা বক্তৃতা দেয়া, এসবই সম্ভবত সাহিত্যিকের মান বিচারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । মেধাবী সাহিত্য সম্পাদকেরও অভাব এখানে । মেধাবী সম্পাদকরা সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে । আর এখানে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক শুরু হয়ে যায় । গুরু যা লিখছে, তার সবই মহৎ সাহিত্য আর শিষ্য যা লিখছে, তার বাইরে যেন কিচ্ছু হচ্ছে না । এসব মানসিকতা নিয়ে তৈরি হয় সার্কেল । সাহিত্য পত্রিকাগুলোও ওই সার্কেলের মধ্যেই ঘোরপাক খায় । আর ফেইসবুক আসার পরে তো নগদ প্রশংসার কাঙাল হয়ে গেছে কবি-সাহিত্যিক সমাজ । অনেকে ওভাররেটেড হচ্ছেন এসব কারণে । অতি প্রশংসায় অনেকের লেখা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । আবার ভালো লিখেও আড়ালে পড়ে থাকছে অনেকে । প্রকাশ্য বা সূক্ষ রাজনীতিও ভূমিকা রাখছে । আমার মনে হয়, এরকমের চর্চা মহৎ সাহিত্য সৃষ্টির পথে অন্তরায় । আরেকটা ব্যাপার এখানে প্রকট । ‘কন্সপিরেসি অব সাইলেন্স’ । এটাও অনেক মহৎ সাহিত্যকে প্রচারের আলোয় আনতে দেয় না ।

প্রশ্নঃ আপনার প্রথম চ্যাপ্টারটা শেষ হলো ক্ষুধা আর নৈরাশ্য দিয়ে, দ্বিতীয় চ্যাপ্টার হলো প্রেমে ও কামের । প্রথম দিকের কবিতাগুলারেই আমার ক্ষুরধার মনে হলো । এখানে একটা উৎরানোর বিষয় আছে । যেমন প্রথম কবিতাটি । হতাশা থেকে উৎরিয়ে এক মানবীর কাছে জীবনের গান পেয়ে যাওয়া । এই বিষয়ে আপনি কী বলেন?

জয়ঃ মানুষের জীবনটাই তো এরকম । কবিকে আশাবাদী হতে হয় । প্রেমিক হতে হয় । বিপ্লবীর চেয়ে প্রেমিকের শক্তি বেশি । নৈরাশ্যের সময়টা পাড়ি দিতে মানুষকে সাহসী হতে হয় । তখন একটা মানসিক আশ্রয়ের দরকার পড়ে । প্রেমের চেয়ে ভাল আশ্রয় কী আছে? প্রথম কবিতাটা এইটাই ইঙ্গিত করে । এখানে নুশরাত শুধু একটি নাম নয় । একটি প্রেম । একটি আশ্রয় । মৃতবৎ সময়ের কাছ থেকে ফিরে নতুন এক জীবনের জন্ম ওখানটায় । কবিতায় উৎরানো ব্যাপারটা থাকতেই হবে, তেমন না । আপনার কাছে প্রথম পার্ট ক্ষুরধার লেগেছে । আরেকজনের কাছে হয়তো দ্বিতীয় বা তৃতীয় অংশটি ক্ষুরধার লাগবে । বা কারো কারো কাছে কিছুই লাগবে না । দ্বিতীয়াংশ প্রেম ও কামের । এই সরলীকরণ মনে হয় ঠিক না । বরং নাইটমেয়ার অংশে জীবনের তীব্রতা আর হাহাকার বেশি । যন্ত্রণার কথা বেশি ।

প্রশ্নঃ বর্তমানে এই সময়ে যারা লেখালেখি করছে তারা দেখা কেবল কবিতায় লিখছে । অন্যক্ষেত্রে হাতই লাগাচ্ছে না । এর কারণ কী বলে মনে হয় আপনার একজন তরুণ হিসেবে?

জয়ঃ এটা যার যার পছন্দের ব্যাপার । ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপার । অনেকেই তো কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখছে । তানিম, জারিফ, শোয়েব অনেকের নামই নেয়া যায় । ওইদিকে সম্বিত, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, তানিয়ার নাম উল্লেখ করা যায় ।

প্রশ্নঃ সামগ্রিকভাবে ধরলে? ব্যক্তিগত পছন্দ সেটা জানি । এখানে ক্যালিভার দেখানোর ও নাড়া দেওয়ারও বিষয় ।

জয়ঃ আমি তেমনটা মনে করি না । তবে কবিকে গদ্য লেখা উচিত । কবির গদ্য, উত্তম গদ্য ।

প্রশ্নঃ সম্ভবত বুড়ো বয়সে । নিজেকে খোলাসা করার জন্য । জীবননান্দ-বিনয়ের মতো…!

জয়ঃ অনেকেই এরকম ভেবে থাকেন । চল্লিশের পর গদ্য লিখবেন । ইমতিয়াজ ভাই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন চল্লিশের পর গদ্য লিখবেন । যতদূর জানি, রোবায়েতও ।

প্রশ্নঃ একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা ভালো। আপনি কবে লিখছেন?

জয়ঃ আমি তো টুকটাক গদ্য নিয়মিতই লিখি । পরস্পরে গত এক বছরে আমার ৮টা গদ্য প্রকাশ হইছে । দু-একটা দৈনিকেও কিছু গদ্য লিখেছি । তবে আগামী দশ বছর কবিতাতেই মনোযোগ দিতে চাই ।

প্রশ্নঃ অন্যান্য ভাষার কবিতা যেভাবে ‍অনূদিত হচ্ছে, বাংলা কবিতা তো হচ্ছে না । বিদেশী এটার কারণ কী বলে মনে হয় আপনার?

জয়ঃ আদি সমস্যা । অনুবাদ না হওয়া । অনুবাদ যা্ হয়, তার বেশিরভাগই মানসম্পন্ন না । তবে অবস্থা পাল্টাবে । এই ইন্টারনেট শতাব্দীতে বাংলা কবিতা বিশ্ব দরবারে পৌঁছাবে । শুধু আন্তরিক চেষ্টা দরকার । সেই চেষ্টাটা শুরু হয়ে গেছে । আমি মনে করি, সমকালে বিশ্বের যে কোন ভাষার চেয়ে বাংলা ভাষার কবিতা এগিয়ে । আফ্রিকাও । আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে এটা হতে পারে ।

প্রশ্নঃ নতুন কাব্যগ্রন্থের ব্যাপারে কী চিন্তা-ভাবনা করছেন? একই ভাষায় লিখে যাওয়া নাকি নতুন কোন ভাষা-চিন্তার প্রকাশ ঘটানোর প্রচেষ্টা দেখা যাবে?

জয়ঃ আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো বইয়ের সব লেখা ২০১৪ এর আগস্ট পর্যন্ত । এরপর বেশ কিছু কবিতা জমেছে । চাইলে এখনি তিন ফর্মার একটা বই প্রকাশের আয়োজন করা যায় । কিন্তু আমি সময় নিতে চাই । ২০১৮-এর আগে না । তবে ২০১৭-তে একটা যৌথ কবিতার বইয়ের পরিকল্পনা আছে । ফারাহ্ সাঈদের সঙ্গে কবিতা লিখছি গত এপ্রিল থেকে । আর কবিতার ভাষা, সামগ্রিক প্রকরণে বদল আনার চেষ্টা করছি । একটা দীর্ঘ কবিতা লিখেছিলাম এক বছর আগে, অক্ষরবৃত্তে । ছন্দ নিয়ে আরো কিছু কাজ করছি । বদলটা এলেও আমার নিজের লেখার যে ধরণ, তা যেন বদলে না যায় সেই দিকেও লক্ষ্য রাখছি ।

প্রশ্নঃ সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ।

জয়ঃ অনেক কথা বলে ফেললাম। শত্রু বাড়বে! আপনেও ধন্যবাদ নিয়েন ।

মন্তব্য

টি মন্তব্য করা হয়েছে

logo-1

চারবাকগণ: রিসি দলাই, আরণ্যক টিটো, মজিব মহমমদ, নাহিদ আহসান

যোগাযোগ: ০১৫৫২৪১৯৪৪২, ০১৭১৮৭৬০৮৪৮, ০১৭২০৩০১৬৩০

ই-মেইল: charbak.com@gmail.com
ডিজাইন: ক্রিয়েটর